আপনার স্কিন ড্রাই নাকি ডিহাইড্রেটেড সেটা বুঝবেন কীভাবে?

নতুন টিপস ও লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক করুন|

আপনার স্কিন ড্রাই নাকি ডিহাইড্রেটেড?

একটা বিষয় নিয়ে আমাদের প্রায় সময়ই কমপ্লেইন থাকে, ‘এত কিছু ব্যবহার করি তাও স্কিনের কোনো পরিবর্তন নেই! দামি দামি প্রোডাক্ট কিনলাম, ডায়েট চেঞ্জ করলাম, কিছুই তো হলো না!’ এমনটি কেন হয় জানেন? উত্তরটা হচ্ছে স্কিন টাইপ সঠিকভাবে না বুঝেই স্কিন কেয়ার করার জন্য। আমরা অনেকেই নিজেদের স্কিন টাইপ সম্পর্কে অবগত না হওয়ায় স্কিন রিলেটেড বিভিন্ন প্রবলেম ফেইস করি। আমাদের স্কিন বিভিন্ন ধরনের হতে পারে, যেমন নরমাল, ড্রাই, অয়েলি ও কম্বিনেশন। ত্বকের ধরন না বুঝে ভুলভাবে স্কিন কেয়ার করার জন্য আপনার ত্বকের ক্ষতি হতে পারে। যেমন একনে, ইরিটেশন, রেডনেস ইত্যাদি সমস্যা অনেকেরই দেখা দেয়। আপনার স্কিন ড্রাই নাকি ডিহাইড্রেটেড সেটা জানা আছে কি?

এই কথাটা তো আমরা সবাই জানি যে উজ্জ্বল, দাগহীন ও সুন্দর ত্বক নিজের কনফিডেন্স লেভেলটা আরও বাড়িয়ে দেয়! সুন্দর ত্বক পেতে বেসিক স্কিন কেয়ার রুটিন ফলো করতে হবে। ত্বকের ধরন বুঝে পরিচর্যা করাটা খুবই ইম্পরট্যান্ট। আপনার স্কিন ড্রাই নাকি ডিহাইড্রেটেড সেটা আগে বুঝতে হবে। ডিহাইড্রেটেড স্কিন বলতে ঠিক কী বোঝায়, সেটাই অনেকে জানেন না! তাই আজকের লেখাটি ড্রাই এবং ডিহাইড্রেটেড স্কিন নিয়ে। আলোচনা করবো এই সম্পর্কিত খুঁটিনাটি বিষয়ে।

ড্রাই vs ডিহাইড্রেটেড স্কিন

‘ড্রাই স্কিন’ শব্দটি শুনেই মনে হয় ত্বকে কেমন যেন শুষ্ক শুষ্ক ভাব, তাই না? আর ড্রিহাইড্রেডেট শুনলে মাথায় যেটা আসে সেটা হচ্ছে পানির অভাব। দুইটি টার্ম কাছাকাছি হলেও এর মধ্যে কিন্তু পার্থক্য আছে। ড্রাই স্কিনে ন্যাচারাল যে অয়েল (সেবাম) থাকে, সেটা কম প্রোডিউস হয়। ত্বক থেকে নিঃসৃত এই সেবাম ময়েশ্চারাইজারকে লক করে রাখে তখন স্কিন ড্রাই হতে পারে না। যাদের স্কিনে ন্যাচারালি এই অয়েল কম থাকে, তাদেরই স্কিন ড্রাই ফিল হয়।

আর ‘ড্রিহাইড্রেটেড’ কোনো স্কিন টাইপ নয়। এটি একটি টেম্পোরারি স্কিন কন্ডিশন। যেকোনো ধরনের ত্বকই ডিহাইড্রেটেড হতে পারে। স্কিনে পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি না থাকলে এমনটি হয়। কনফিউশন আসে তখনই, যখন আপনার স্কিন রুক্ষ ও মলিন দেখায়। স্কিন ড্রাই নাকি ডিহাইড্রেটেড সেটা অনেকেই বুঝতে পারেন না! আপনার স্কিন ড্রাই নাকি ডিহাইড্রেটেড সেটা বুঝবেন কীভাবে?

See also  ত্বক কালো হয় যেসব কারণে!

ড্রাই স্কিনের লক্ষণ

  • স্কিন অনেকটা রাফ দেখায় কিংবা ইচিনেস থাকতে পারে
  • সব সময়ই ত্বক শুষ্ক হয়ে থাকে
  • স্কিনে প্যাচিনেস, সাদা সাদা ছোপ, ইরিটেশন এই ধরনের সমস্যা হতে পারে
  • খুব দ্রুতই ত্বকে বয়সের ছাপ ও চোখের নিচে ফাইন লাইনস চলে আসে
  • স্কিন অতিরিক্ত ড্রাই হয়ে গেলে চামড়া উঠে উঠে আসে এবং খসখসে লাগে
  • মেছতার সমস্যা দেখা দিতে পারে

শুষ্ক ত্বকের যত্ন

১) ফেইস ওয়াশ ও স্ক্রাব নির্বাচন করা 

শুষ্ক ত্বকের যত্নে এমন ফেইস ওয়াশ আপনাকে বেছে নিতে হবে, যেটা ত্বককে ওভারড্রাই করবে না এবং ময়েশ্চার প্রোপার্টিজ আছে। ড্রাই স্কিনে খুব দ্রুতই ডেড সেলস জমে যায়, তাই সপ্তাহে ১/২ দিন স্কিন এক্সফোলিয়েট করুন। এমন স্ক্রাব নির্বাচন করতে হবে যেটা ত্বককে ড্রাই না করেই ডিপলি ক্লিন করবে।

স্কিনের ধরন বুঝে ফেইস ওয়াশ ও স্ক্রাব ইউস করছেন একজন

২) ময়েশ্চারাইজার অ্যাপ্লাই করা

ত্বক ভালোভাবে পরিষ্কার করে আপনাকে অবশ্যই ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করতে হবে এবং সেটা রেগুলার বেসিসে করতে হবে। এক্ষেত্রে ক্রিম বেইজড একটু থিক ময়েশ্চারাইজার সিলেক্ট করতে পারেন। অনেক ময়েশ্চারাইজার আছে যেগুলোর ফর্মুলা লাইট হলেও লং টাইম ধরে স্কিনের ময়েশ্চার লক করে রাখে, ড্রাই ফিল হয় না। সেগুলোও ব্যবহার করতে পারেন। আপনার স্কিন যদি অতিরিক্ত ড্রাই হয়, সেক্ষেত্রে আপনার রেগুলার ময়েশ্চারাইজারের সাথে কয়েক ফোঁটা আর্গান অয়েল মিক্স করে নিন।

৩) ফেইস মাস্ক লাগানো 

মধু ও ওটমিল দিয়ে তৈরি মাস্ক ড্রাই স্কিনের জন্য বেশ কার্যকরী। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গিয়েছে, মধু প্রাকৃতিক ময়েশ্চারাইজার হিসাবে কাজ করে। অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি বৈশিষ্ট্য থাকায় ত্বকের যত্নে নানান বেনিফিট আছে মধুর। ড্রাই স্কিনের যত্নে ওটমিল খুবই ভালো কাজ করে, কারণ এতে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট আছে। ওটমিল পাউডার করে মধুর সাথে প্যাক বানিয়ে সেটা ফেইসে লাগিয়ে রাখুন। চাইলে দুধও এই মাস্কে মিক্স করা যেতে পারে, এতে স্কিন নারিশড ও সফট হবে। কিছুক্ষণ অপেক্ষা করে ধুয়ে ফেলবেন।

মধু ও ওটমিলের ফেইস মাস্ক

৪) অ্যালোভেরা জেল দিয়ে ম্যসাজ 

অ্যালোভেরাতে অ্যালার্জি না থাকলে অনায়াসে এটি স্কিন কেয়ার রুটিনে ইনক্লুড করা যায়। রাতে ঘুমানোর আগে অ্যালোভেরা জেল ফেইসে হালকা হাতে ম্যাসাজ করে ২০/২৫ মিনিট লাগিয়ে রাখুন, এরপর পানির ঝাপটা দিয়ে ধুয়ে নিন। ত্বক কোমল ও আর্দ্র থাকবে।

See also  প্রাকৃতিকভাবে ত্বককে ময়শ্চারাইজ করার ৫ টি সহজ উপায়

৫) অয়েল ম্যাসাজ

ড্রাই স্কিনের যত্নে ন্যাচারাল অয়েল বেশ কার্যকরী। এটা স্কিনকে ময়েশ্চারাইজড রাখে। এক্ষেত্রে জোজোবা অয়েল নিশ্চিন্তে ব্যবহার করতে পারেন। এটি ত্বকের ড্যামেজ রিপেয়ার করবে, ত্বককে উজ্জ্বল ও কোমল রাখবে। হাতের তালুতে সামান্য একটু তেল নিয়ে সার্কুলার মোশনে হালকা করে ম্যাসাজ করুন। সপ্তাহে ২/৩ বার করতে পারেন। জোজোবা অয়েল না থাকলে কয়েক ফোঁটা আর্গান অয়েল বা অ্যাভোকাডো অয়েলও ব্যবহার করতে পারেন।

আরও কিছু টিপস ড্রাই স্কিনের জন্য

  • স্কিন ক্লিন করার সাথে সাথেই ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন
  • দিনের বেলায় সানস্ক্রিন ব্যবহার করুন
  • পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করুন
  • কুসুম গরম পানি দিয়ে মুখ ধোয়ার চেষ্টা করুন
  • প্রতিদিন এক গ্লাস দুধ পান করুন। দুধে থাকা ফ্যাট ড্রাই স্কিনের জন্য বেশ ভালো
  • স্কিন থেকে ময়েশ্চার কমিয়ে দেয় বা সেবাম প্রোডাকশন কন্ট্রোল করে এমন উপাদানযুক্ত প্রোডাক্ট ব্যবহার না করাই ভালো যেমন, বেনজোয়েল পারঅক্সাইড স্যালিসাইলিক এসিড, অ্যালকোহল, সোডিয়াম লরেল সালফেট, আপেল সিডার ভিনেগার ইত্যাদি।
  • ক্লে বেইজড মাস্ক সরাসরি অ্যাপ্লাই করলে সেটা স্কিনকে আরও ড্রাই করে দিতে পারে, তাই যেকোনো ক্লে মাস্কের সাথে টকদই বা দুধ মিশিয়ে ব্যবহার করুন

ডিহাইড্রেটেড স্কিনের লক্ষণ

একজন আয়নায় ত্বকের মেছতা দেখছেন

ড্রাই স্কিনের মতন ডিহাইড্রেটেড স্কিনেও চোখের নিচে ডার্ক সার্কেল, ফাইন লাইনস বা বয়সের ছাপ দেখা যায়। তবে বাসায় বসে ছোট্ট একটি টেস্টের মাধ্যমে সহজেই বুঝতে পারবেন আপনার স্কিন ডিহাইড্রেটেড হচ্ছে কিনা। আপনার গালের যেকোনো অংশে লাইটলি প্রেস করুন। স্কিন আগের জায়গায় যেতে যদি সময় নেয় তাহলে বুঝবেন স্কিন সঠিক পরিমাণে হাইড্রেটেড না। এই সময়ে স্কিনে খুব টানটান ফিল হয়, সেই সাথে স্কিন নিষ্প্রাণ ও মলিন দেখায়। অয়েলি স্কিন বা কম্বিনেশন স্কিনেও খুব সহজে এই কন্ডিশন দেখা দিতে পারে। তাই হুট করে যদি ত্বক রুক্ষ লাগে, এটা ধরে নিবেন না যে আপনার স্কিন টাইপ ড্রাই হয়ে গিয়েছে! হাইড্রেশনের অভাবেও এটি হতে পারে।

কীভাবে যত্ন নিতে হবে?

১) আপনার ত্বক যদি ডিহাইড্রেটেড হয়ে থাকে, তাহলে মাইল্ড ক্লেনজার সিলেক্ট করুন। কুসুম গরম পানি দিয়ে মুখ ধুতে হবে। এর পরের ধাপেই হাইড্রেটিং টোনার ব্যবহার করুন বা রোজ ওয়াটার স্প্রে করে নিন।

See also  ত্বকের সৌন্দর্য বাড়াতে লেবুর ব্যবহার | Lemon to enhance the Beauty

২) ডিহাইড্রেটেড স্কিনের জন্য মিরাকল ইনগ্রেডিয়েন্ট হলো হায়ালুরনিক এসিড। এটি স্কিনের ময়েশ্চার লক করে স্কিনকে হাইড্রেটেড রাখে। সেই সাথে বয়সের ছাপ, দাগ এগুলোও কমিয়ে আনে। ত্বকের যত্নে হায়ালুরনিক এসিডযুক্ত সিরাম ইউজ করতে পারেন।

ত্বকে সিরাম অ্যাপ্লাই

৩) এর পাশাপাশি স্কিনকে ইনস্ট্যান্ট হাইড্রেট করে এমন প্রোডাক্টস যেমন ফেইস মিস্ট ও শিট মাস্ক ব্যবহার করুন। এখন তো শীট মাস্ক সহজেই পাওয়া যায়। সপ্তাহে ১/২ দিন শিট মাস্ক ব্যবহার করলে ত্বক অনেকটাই হাইড্রেটেড হবে। আর বাইরে বের হলে সাথে ফেইস মিস্ট রাখুন, যখনই ত্বক ডিহাইড্রেটেড ফিল হবে, তখনই স্প্রে করে নিন।

৪) চন্দন গুঁড়োর সাথে টকদই, শসার রস আর মধু একসাথে মিশিয়ে দারুণ একটি মাস্ক বানিয়ে নিতে পারেন। সবগুলো উপকরণই স্কিনকে হাইড্রেটেড রাখবে আর গ্লোয়িং লুক পেতে হেল্প করবে। সপ্তাহে ২/৩ দিন এই ফেইস মাস্কটি লাগাতে পারেন।

৫) এছাড়া ডিহাইড্রেটেড স্কিনের জন্য স্নেইল মিউসিন, ফলের নির্যাস, মধু, অ্যালোভেরা, গ্লিসারিন, ল্যাকটিক এসিড, সাইট্রিক এসিড, মিল্ক এই উপাদানগুলো বেশ কার্যকরী। স্কিন কেয়ার প্রোডাক্ট কেনার সময় দেখে নিন যে এই উপাদানগুলো আছে কিনা!

বোনাস টিপস

ত্বকের ধরন বুঝে স্কিন কেয়ার প্রোডাক্ট ব্যবহারের পাশাপাশি আপনি সঠিক ডায়েট এবং হেলদি লাইফ স্টাইল ফলো করলে সহজেই স্কিন নরমাল কন্ডিশনে ফিরে আসবে। কিছু কিছু বিষয়ে খেয়াল রাখতে হবে।

একজন পানি খাচ্ছেন

  • প্রতিদিন কমপক্ষে ৮ গ্লাস পানি পান করা
  • ক্যাফেইন জাতীয় পানীয় কম পান করা
  • ওয়ার্ক আউট করার পর ফ্লুইড জাতীয় খাবার খাওয়া/ ফ্রেশ ফ্রুট জুস/ ডাবের পানি পান করা
  • অতিরিক্ত চিনি এবং লবণযুক্ত খাবার পরিত্যাগ করা
  • ধূমপান থেকে বিরত থাকা

সুতরাং বুঝতে পারলেন স্কিন টাইপ বুঝে যত্ন নেওয়ার উপায়গুলো কী কী! আপনার স্কিন ড্রাই নাকি ডিহাইড্রেটেড সেটা বোঝার ট্রিকসও জেনে নিলেন। ত্বকের ধরন বুঝে যত্ন নিন। এতে ত্বক থাকবে স্বাস্থ্যজ্জ্বল আর আপনি সবসময়ই থাকবেন লাবণ্যময়ী।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*