বয়স ৩০ পার হয়েছে? সতর্ক হবেন যেসব বিষয়ে

নতুন টিপস ও লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক করুন| আরো পড়তে এখানে ক্লিক করুন| আপনি লিখতে চাইলে এখানে রেজিস্টার করুন | Want to Read and Write in English Language Click Here

ভালো থাকার উপায়

জীবনের তিরিশটা বসন্ত অতিবাহিত হওয়ার পর অনেকেই ভাবেন যে এইবার বোধহয় রোগ ভোগের পালা শুরু হলো। ব্যাপারটা কিন্তু পুরোপুরি ঠিক নয়। বরং বলা যায় যে পুরোটা নির্ভর করছে আপনি শরীর সম্পর্কে কতটা সচেতন। এই নির্দিষ্ট বয়সের পর একবার ডাক্তারি পরীক্ষা এবং কিছু টেস্ট করা জরুরি। কিন্তু তার থেকে বড় ব্যাপার হল, শারীরিক এবং মানসিকভাবে ফিট থাকার কলাকৌশলগুলো ভালো করে রপ্ত করতে হবে।

তাই প্রথমেই আমরা ভালো থাকার কিছু টিপস্‌ সংক্ষেপে জেনে নেব—

১) রাত্রে পর্যাপ্ত ঘুম : সাত থেকে আট ঘণ্টা ঘুম ফিট থাকার জন্য একান্তই দরকার। গবেষণায় দেখা গেছে ঘুম ঠিক মতো না হলে স্ট্রেস বেড়ে যায়। মানসিক উৎকণ্ঠা বাড়লে শরীরে ডায়াবেটিস এবং ব্লাডপ্রেশার বাসা বাঁধে। অনেকেই এই বয়স থেকে অনিদ্রায় ভুগতে শুরু করেন। ঘুম আসতে চায় না। এই সমস্যা সমাধানে গান শুনুন, গল্পের বই পড়ুন। নিশ্চয়ই ঘুম আসবে। শোওয়ার ঘরে মোবাইল ফোন আনবেন না।

২) নিয়মিত শরীরচর্চা : প্রতিদিন আধঘণ্টা হাঁটা খুব জরুরি। সারাদিনে কমপক্ষে দুই শ’ স্টেপ হাঁটতে পারলে ভালো হয়। সকালে বা বিকালে যেকোনো সময় হাঁটতে পারেন। তবে যেহেতু সকালে দূষণমুক্ত বাতাস থাকে তাই সকালে হাঁটা শ্রেয়। এছাড়া ট্রেডমিল বা সাইক্লিং অথবা সাঁতার-এর মধ্যে যে কোনও একটা সপ্তাহে কমপক্ষে দু’দিন করতে পারলে ভালো।

৩) মিষ্টি বর্জন করুন : ডায়াবেটিস থাকলে তো কথাই নেই, না থাকলেও মিষ্টি খেলে ওজন বাড়ে। তাই তিরিশ পেরলে চিনি ছাড়া গ্রিন টি খাওয়া শুরু করুন। সুগার ফ্রি চলতে পারে, কিন্তু বেশি নয়। ওজন যত নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন বাতজনিত কারণে ব্যথা-বেদনায় কম ভুগবেন।

See also  গরমে উজ্জ্বল ত্বক: টমেটো ও মধুর প্যাক

৪) ভাজাভুজি এড়িয়ে চলুন : যতটা সম্ভব কম তেলে রান্না করতে পারলে ভালো। বিশেষ করে বাইরের ফ্রায়েড ফুড, ফাস্ট ফুড, তেলের ভাজা এড়িয়ে চলতে হবে।

৫) রোজ খান টাটকা ফল : নিয়মিত টাটকা শাকসব্জি এবং মরশুমি ফল খেতে হবে। সপ্তাহে দু’দিন পুরোপুরি নিরামিষ খান। কীটনাশক মুক্ত অর্গ্যানিক খাবার খান চাষিদের থেকে কিনুন তাজা ফলমূল।

৯) প্রকৃতির মাঝে সময় কাটান : দিনে কমপক্ষে এক ঘণ্টা বাড়ির বাইরে প্রকৃতির মাঝে কাটান। পার্কে বা মাঠে গিয়ে প্রাণখুলে প্রকৃতির ঘ্রাণ নিন। গায়ে রোদ লাগান, হাঁটুন, ব্যায়াম করুন। লোকের সঙ্গে বন্ধুত্ব করুন। অনেকের মাঝে বাঁচার চেষ্টা করুন। ধ্যান বা যোগাসনে মন দিন। এতে করে শরীর এবং মন দু’টিই ভালো থাকবে এবং রোগ মুক্তি হবে।

১০) প্রচুর পরিমাণে পানি পান করুন : দিনে দশ গ্লাস পানি পান করুন। এতে করে কোষ্ঠকাঠিন্য দূর হবে। শরীর থেকে বর্জ্য পদার্থ বেরিয়ে যাবে এবং কিডনি বা মূত্রনালীতে পাথর হওয়ার আশঙ্কা কমবে। তবে যাদের ইতিমধ্যে হার্ট, কিডনি বা সোডিয়ামের সমস্যা আছে তারা ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী পানির মাপ ঠিক করে নেবেন।

See also  যেসব ফলে দ্রুত ওজন কমে [৬ টি সাধারণ ফল]

১১) প্রাণ খুলে হাসুন : হাসির বই পড়ুন, লাফিং ক্লাবে যোগ দিন। সদাহাস্যময় লোকের সঙ্গে বন্ধুত্ব করুন। দৈনন্দিন জীবনে যাই হোক না কেন সবসময় পজিটিভ থাকার চেষ্টা করুন। নিয়ম করে লম্বা শ্বাস নিন আর ছাড়ুন। এতে করে স্ট্রেস কমবে এবং ভালো ঘুম হবে।

১২) জীবনসঙ্গীকে সময় দিন : তিরিশ পেরলেই জীবনসঙ্গীর ওপর নির্ভরশীল হোন। স্ট্রেস কমবে, ভালো ঘুম হবে। একসঙ্গে গান শুনুন, গল্পের বই পড়ুন, কাছে-দূরে বেড়িয়ে আসুন। নতুনভাবে ভাবতে শুরু করুন, নতুন ভাবে বাঁচতে শিখুন।

বছরে একবার যে পরীক্ষাগুলো করা উচিত

চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করে বছরে অন্তত একবার এই টেস্টগুলো করিয়ে নিন—

  • কমপ্লিট ব্লাড কাউন্ট (সিবিসি) : রক্তাল্পতা সহ রক্তের নানা রোগ নির্ণয়ের প্রাথমিক পরীক্ষা।
  • ব্লাড সুগার : ডায়াবেটিস হচ্ছে কি না বা ডায়াবেটিস হওয়ার আশঙ্কা (প্রি ডায়াবেটিস) আছে কি না বোঝা যায়।
  • ইউরিয়া, ক্রিয়েটিনিন : কিডনির রোগ জানার প্রারম্ভিক পরীক্ষা হলো ইউরিয়া, ক্রিয়েটিনিন।
  • লিভার ফাংশান টেস্ট : এই পরীক্ষার উপর ভিত্তি করে লিভারের সমস্যা আছে কি না বা থাকলে তা কতটা খারাপ বোঝা যায়।
  • লিপিড প্রোফাইল : রক্তে কোলেস্টেরল এবং ট্রাইগ্লিসারাইডের মাত্রা জানা যায়। এই দুই স্নেহপদার্থ রক্তে মাত্রারিক্ত মাত্রায় ঘোরাফেরা করলে হার্ট অ্যাটাক হওয়ার আশঙ্কা প্রবল। এই পরীক্ষা ১২ ঘণ্টা খালি পেটে করা উচিত।
  • টিএসএইচ : থাইরয়েড গ্রন্থির হর্মোনের কার্যকারিতা বোঝার প্রারম্ভিক পরীক্ষা।
  • ইসিজি : হৃৎপিণ্ডের ছন্দপতন হচ্ছে কি না বা রক্ত সঞ্চালনের সমস্যা হচ্ছে কি না বোঝা যায়।
  • ইকোকার্ডিওগ্রাফি : হৃৎপিণ্ডের সংকোচন-প্রসারণ ঠিকমতো হচ্ছে কি না, ভালভের কোনও সমস্যা আছে কি না বা হৃৎপিণ্ডের বাইরের আস্তরণে জল জমছে কি না বোঝা যায়। তবে ট্রেড মিল টেস্ট চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া করাবেন না।
  • পেটের আলট্রাসোনোগ্রাফি : এই পরীক্ষায় পেটের বিভিন্ন অঙ্গের গঠনগত সমস্যা হচ্ছে কি না বোঝা যায়। অর্থাৎ কিডনি বা গলব্লাডার পাথর জমছে কি না, লিভারে ফ্যাট জমছে কি না বা ছেলেদের ক্ষেত্রে প্রস্টেট বড় হচ্ছে কি না তা জানার জন্য এই পরীক্ষা জরুরি।
  • চেস্ট এক্স রে : বুকে কোনো জীবাণুর সংক্রমণ হচ্ছে কি না বা কোনো টিউমার দেখা যাচ্ছে কি না তা বোঝা যায় প্রাথমিকভাবে।
  • স্টুল ফর অকাল্ট ব্লাড টেস্ট : পাকস্থলী বা অন্ত্রের রক্তপাত বোঝা যায়।
  • ডেক্সা স্ক্যান : হাড়ের ক্ষয়িষ্ণুতা ও ভঙ্গুরতা জানতে এই পরীক্ষা করাতে হয়।
See also  পেটের চর্বি থেকে মুক্তি পাবার সহজ উপায়! ৭ টি সহজ পদ্ধতিতে

২) বিশেষ কিছু পরীক্ষা

  • পুরুষের ৫০ বছর বয়সের পর বছরে একবার প্রস্টেট স্পেসিফিক অ্যান্টিজেন টেস্ট-এর মাধ্যমে প্রস্টেট ক্যান্সার হচ্ছে কি না তা বোঝা যায়।
  • মেয়েদের ক্ষেত্রে ব্রেস্ট ক্যান্সার জানার জন্য ম্যামোগ্রাফি করাতে হবে। ক্ষেত্রবিশেষে আল্ট্রাসোনোগ্রাফিও করা হয়।
  • মহিলাদের সার্ভাইক্যাল ক্যান্সার নির্ধারণের জন্য প্যাপ স্মিয়ার পরীক্ষা করা হয়।
  • অবশ্যই বছরে একবার চোখ এবং দাঁত পরীক্ষা করুন

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*