| |

লৌহ মানব সদার বল্লভ ভাই প্যাটেল অজানা তথ্য

বল্লভ ভাই প্যাটেল

লৌহ মানব সদার বল্লভ ভাই প্যাটেল

বল্লভ ভাই প্যাটেল ভারতের একজন পণ্ডিত ও জাতীয়তাবাদী নেতা। তিনি সারাদা প্যাটেল নামে পরিচিত ছিলেন।যাকে আমরা ভারতের লৌহমানব হিসেবে শুনে থাকি। তিনি স্বাধীন ভারতের প্রথম উপ প্রধানমন্ত্রী।

জন্মস্থান

1875 সালে 31 অক্টোবর   সদার বল্লভ ভাই প্যাটেল জন্ম গ্রহণ করে ছিলেন।এক সাধারণ কৃষক পরিবারে ।বাবা নাম ছিলেন জাভেরভাই প্যাটেল ও মা লাডবাই  প্যাটেল । তার বাবা ঝাঁসির রানির সেনাবাহিনীতে কাজ করেছিলেন। ছোটো  থেকে বল্লভ ভাই পাটেল ছিলেন মেধাবি ছাএ। তার প্রাথমিক শিক্ষা শুরু হয় গ্রামের মিডিয়াম স্কুল থেকে। এবং পরে  বর্শা নামক স্কুল থেকে মেট্রিক পাশ করেন। শুরু শুরুতে পরিবার তাকে দায়িত্ব হীন বলে মনে করতে।  পরিবারে এই খারাপ মন্তবের জন্য তিনি নিজের কাছে নিজে সিদ্ধান্ত নেয় ।এক দিন  তিনি বড়ো মানুষ হবেন । তারপর তিনি ইংল্যান্ডে আইন(LAW)  নিয়ে পড়াশোনা করে। তিনি দু’বছর কঠোর পরিশ্রমের পর ব্যারিস্টার হয়ে যান।  তারপর তিনি দেশে ফিরে আসে।তারপর তার পিতামাতা জাভেরবে নামে এক মেয়ের সাথে তার বিয়ে দেন ।

পরে বল্লভ ভাই প্যাটেল তার স্ত্রীর সঙ্গে গোদরা নামে এক জায়গায় গিয়ে থাকতে শুরু করে। এবং সেখানে আদালতে ওকালতি করতে শুরু করে। তারপর তাদের দুই সন্তান হয়। ছেলের নাম (১৯০৬-১৯৭৩) দাহ্যাভাই প্যাটেল ও  মেয়ের নাম (১৯০৩-১৯৯০) রাখেন মানিবেন  প্যাটেল। কোর্টে ওকালতি করে আর্থিক অবস্থা সফল হওয়ার পরে। তিনি সব লক্ষ ছেলেমেয়ের পড়াশোনার উপর দেন।কন্যা ছিলেন একজন কর্মী এবং তার পুত্র ভারতের সংসদ সদস্য ছিলেন।

দেশের সেবা বা সমাজ সেবা

সমাজে চলে আসা  কূনীতি তে বল্লভ ভাই প্যাটেল মনে মনে দুঃখ করতেন।তারপর তিনি এসব সমস্যা সমাধানের জন্য তিনি রাজনীতিতে যান । তারপর তিনি সালে আমেদাবাদে স্যানিটেশন কমিশনারের পদের জন্য লড়াই করেন এবং তিনি জিতে যান। সমাজকে শোধরাবার বিচারে  ব্রিটিশদের সাথে বল্লভ ভাই প্যাটেলের মতের বিরোধ দেখা যায়।এই কারণে বল্লভ ভাই প্যাটেলের রাজনীতিতে অসুবিধা দিতে শুরু করে।1917 সালে গান্ধীজীর সাথে এক মিটিং এর সময় তিনি গান্ধীজী দ্বারা প্রভাবিত হন। এবং তিনি ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের যোগদান করেন। তারপর বল ভাই প্যাটেল কে( INDIAN NATIONAL CONGRESS)গুজরাট সভার সেক্রেটারি বানানো হয়।তারপর তিনি পুরোদমে ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়েন।এই সময় ভারতীয়রা ইংরেজদের দ্বারা প্রতিনিয়ত অত্যাচারিত হচ্ছিল ।

গুজরাটের প্রচন্ড খরা  হওয়া জন্য কৃষকরা অনাহারে মরে ছিল। তবুও ব্রিটিশরা কর আদায় জন্য পিছু পা হননি।কৃষকদের এই কষ্ট সহ্য না করতে পেরে। কৃষকদের সঙ্গে একযোগে বিরোধিতা করতে শুরু করে।যে একসময়  কোট প্যান্ট পরে থাকতেন তিনি।সেই বিদেশি পোশাক ত্যাগ করে তিনি দেশি পোশাক পরতে শুরু করেন।

বল্লভ ভাই প্যাটেলের মতো হাজারো ও দেশপ্রেমিকের চেষ্টাতে 1947 সালের 15 ই আগস্ট আমাদের ভারতবর্ষের স্বাধীনতা লাভ করে।ভারত স্বাধীন হওয়ার পরে বহু লোক চাইছিলেন বল্লভ ভাই প্যাটেল প্রথম ভারতের প্রধানমন্ত্রী (PM)  হোক।কিন্তু তিনি প্রথম প্রাইম মিনিস্টার এর পথ থেকে দূরে থাকা সঠিক মনে করলেন। এবং তিনি জহরলাল নেহেরু কে প্রথম প্রাইম মিনিস্টার হওয়ার সুযোগ দিলেন। এবং তিনি প্রথম ডেপুটি প্রাইম মিনিস্টার এবং হোম মিনিস্টার হলেন ।তারপর একটি বড় সমস্যা দেখা দিল।

ভারতবর্ষে 565 টি রাজ্যের রাজা আলাদা আলাদা দেশ গঠন করতে চেয়েছিল।তিনি এই পদে থেকে প্রধান যে কাজ করেন। 565 রাজ্যকে এক করেন কোন বিবাদ ছাড়াই। যদিও কাজটি সহজ ছিলো না ।দূরদৃষ্টি সাথে সমস্ত রাজাকে বোঝান ও সমস্ত রাজ্য কে এক করেন।এইভাবে তিনি ভারতকে টুকরো টুকরো হওয়ার হাত থেকে বাঁচান। তার এই অসাধারণ কাজের জন্য তাকে লৌহ পুরুষ বা তাকে আয়রনম্যান বলা হয়ে থাকে।এবং সব কাজে আগে থাকার জন্য তার নাম দেওয়া হয় সরদার ।

মৃত্যু

তিনি দ্বিতীয়বার হার্ট অ্যাটাকে হাজার 1950 সালের 15 ডিসেম্বর মুম্বাই বিল্লা হাউসে মৃত্যুবরণ করেন।

সম্মাননা

বল্লভ ভাই প্যাটেল স্মৃতিতে 2014 সালে ভারত সরকার জানায় যে 31 শে অক্টোবর অর্থাৎ তার জন্মদিনে রাষ্ট্রীয় একতা দিবস পালন করা হবে।এরই সঙ্গে পৃথিবীর উচ্চতম স্ট্যাচু সরদার বল্লভ ভাই প্যাটেলের স্ট্যাচু বানানো হয়েছে ।৩১শে অক্টোবর ২০১৮ইং সালে উদ্ভোধন করা হয়।এইছাড়াও তার নামে একটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর রয়েছে।যা আজ স্ট্যাচু অফ ইউনিটি (STATUE OF UNITY) নামে পুরো পৃথিবী পরিচিত ।যার উচ্চতা 182 মিটার। যা আমেরিকা স্ট্যাচু অব লিবার্টি  (STATUE OF LIBERTY) থেকেও বেশি।বল্লভ ভাই প্যাটেল অর্থাৎ আয়রনম্যানের এই অবদান ভারতবর্ষের মানুষ কোনোদিন ভুলবে না ।

পুরস্কার ও সম্মান

  • ভারত-রত্ন, (১৯৯১)
  • লৌহ-মানব উপাধি।

স্মৃতি

  • ঐক্যের স্মৃতি।
  • বল্লভ ভাই প্যাটেল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর।

Similar Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published.