মাংকি পক্স (monkeypox outbreak)কী, এই রোগ থেকে বাঁচার উপায় ও এর উপসর্গ

মাংকি পক্স

মাংকি পক্স কী

বিশ্বজুড়ে কোভিড আক্রান্তের মধ্যে মাথা নাড়িয়ে দিয়েছে আবার এক ভাইরাস যা হল মাঙ্কি পক্স ।মাংকি পক্স এমন একটি ভাইরাস যা রেডার্স নামক ইঁদুরের মত প্রাণীতে দেখা যায়। এতদিন এটি আফ্রিকার মধ্যে অঞ্চল এবং পশ্চিমাঞ্চলে সীমাবদ্ধ থাকলেও আরো বেশ কয়েকটি দেশের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। গবেষণার কাজে ব্যবহৃত বানর থেকে 1958 সালে কঙ্গোয় প্রথম পক্সসদৃশ মাংকি পক্স শনাক্ত করা হয়।সেখান থেকে নাম হয় মাংস পক্স ।প্রথমবারের মতো মানুষের দেহে এটি শনাক্ত হয় 1970 সালে। তখন কঙ্গোর প্রত্যন্ত অঞ্চলের নয় বছর বয়সি এক বালকের একবার এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয় ।

মাংকি পক্স যে দেশে বেশি দাপিয়ে বেড়াচ্ছেঃ-

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO)  তথ্যমতে প্রতিবছর আফ্রিকা অঞ্চলে কয়েক হাজার মানুষ মানকি পক্সে আক্রান্ত হয়ে থাকেন ।যার বেশিরভাগই কঙ্গোতে ।দেশটিতে প্রতিবছর প্রায় ছয় হাজার রোগী শনাক্ত হয় ।নাইজেরিয়ায় বার্ষিক আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় 3000। 2003 সালে যুক্তরাষ্ট্রের 6 অঙ্গরাজ্য 47 জন আক্রান্ত হয়েছিলেন। নতুন রোগটি ক্রান্তীয় রেড ফরেস্ট অঞ্চলের কাছাকাছি মধ্য ও পশ্চিম আফ্রিকার প্রত্যন্ত অংশে বেশি দেখা যাচ্ছে ।তার বাইরে যুক্তরাজ্যেওশনাক্ত  হয়েছে মাংকি পক্স ।করোনা থেকে শিক্ষা নিয়ে ভাইরাসটিকে মোটেও হেলাফেলা করতে চাচ্ছে না যুক্তরাজ্য ।সে লক্ষ্যে ব্রিটিশ স্বাস্থ্যমন্ত্রী শাবির জানিয়েছেন ।মাংকি পক্স মোকাবেলায় দেশটির সরকার স্মলপক্স বা গুটি বসন্তের টিকা কিনে রেখে তাদের মজুদ বাড়াচ্ছে ।নতুন করে মার্কেট শনাক্ত হয়েছে ইতালির ,পর্তুগাল, স্পেন, সুইডেন, ইজরাইল, ভারত।

See also  শরীরের দুর্গন্ধ দূর করার কয়েকটি সহজ উপায়

মাংকি পক্স এর উপসর্গঃ-

অন্য যেকোনো পক্স এর মতমাংকি পক্সের লক্ষণ গুলি হল-

  • গায়ে বসন্তের মতো গুঁটি
  • জ্বর
  • মাথাব্যথা
  • ঘেমে যাওয়া
  • পিঠে ব্যথা
  • শরীরে ছোট-বড় ফুসকুড়ি
  • মাংসপেশি টান ও অবসাদ

তবে জ্বর কমার সঙ্গে সঙ্গে শরীরে ফুসকুড়ি দেখা যায়।ওপরে বিশেষ করে হাতের তালু এবং পায়ের তলায় এটি ছড়িয়ে পড়ে। ফুসকুড়ি তো প্রচন্ড চুলকানির পর এটি এক প্রকার খোস-পাঁচড়ায় পরিণত হয়।পরে এগুলো থেকে ক্ষতচিহ্নের দেখা যায়। সাধারণত 14 থেকে 21 দিনের মধ্যে সেরে ওঠে রোগী।যা সংক্রমণ নিজে থেকেই কেটে যায়।

মাংকিপক্স কিভাবে ছড়ায়ঃ-

  • আক্রান্ত ব্যক্তির ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শে এলে এই রোগ ছড়ায়।
  • ত্বক, শ্বাসনালী, চোখ এবং নাক মুখ এর মাধ্যমে এই রোগ  ছড়াতে পারে ।
  • সংক্রমিত বানর, ইন্দুর ও কাঠবিড়ালী কিংবা ভাইরাসযুক্ত কোন বস্তুর সংস্পর্শে এলে রোগ ছড়ায়।
  • আরও জানিয়েছেন  সম্প্রতি মাঙ্কি ভাইরাসে আক্রান্ত একাধিক ব্যক্তিকে পরীক্ষা করে চিকিৎসকরা মনে করছেন যৌন সংসর্গের মাধ্যমেও ছড়াতে পারে এই ভাইরাস।যৌন সংসর্গের (Sexual relations) মাধ্যমেও ছড়াতে পারে মাঙ্কি ভাইরাস (Monkey Virus), এমনটাই জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।
See also  কোভিডে মৃত্যু হলে সৎকার হোক , দায়িত্ব নিক কেন্দ্র, সোনু সুদ

এই রোগ থেকে বাঁচার উপায় ও চিকিৎসাঃ-

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা বলেছেন মাংকি পক্স কোনো চিকিৎসা নেই।সংক্রমণ প্রতিরোধের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। মাংকি বক্স প্রতিরোধে গুটি বসন্তের টিকা 85% পার্সেন্ট কার্যকরী বলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা বলেছেন।এছাড়া কিছু জন বিশেষজ্ঞ গবেষক চিকিৎসকরা জানিয়েছেন রোগীদের উপর দুটি পৃথক অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ ব্রিনসিডোফোভির এবং টেকোভিরিমাট প্রয়োগ করেই গবেষকরা আশানুরূপ ফলাফল পেয়েছেন বলে জানা গেছে। যদিও মাঙ্কি পক্সের সংক্রমণ রুখতে ব্রিনসিডোফোভির নামক ওষুধটির কার্যকারিতা সম্পর্কে যতটা নিশ্চিত গবেষকরা, টেকোভিরিমাট ওষুধটির বিষয়ে ততটা নন, এই টেকোভিরিমাট ওষুধটির সম্পর্কে এখন ও আরও গবেষণার প্রয়োজন আছে বলে মনে করছেন গবেষরা।প্রত্যেক চিকিৎসকদের মতে যতটা সম্ভব মানুষের সংস্পর্শে কম যাওয়ার চেষ্টা করতে  হবে। পরিষ্কার পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকতে হবে। মাংস লক্ষণ গুলি  দেখা দিলে তৎক্ষণাৎ চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

মাংকি পক্স কতটা ভয়াবহ:-

এখন পর্যন্ত যে রোগে আক্রান্তদের কারো মৃত্যুর ঘটনা শোনা যায়নি ।স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন এ ভাইরাস এখন বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়ার মতো পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়নি ।ইউনিভার্সিটি অফ নটিংহামের মলেকুলার বায়োলজি অধ্যাপক জোনাথন বল  জানিয়েছেন প্রাথমিকভাবে মানচিত্র সংস্পর্শে এসেছেন এমন 50 ব্যক্তির মধ্যে মাত্র একজনকে ভাইরাসে সংক্রমিত হয়ে। তাই এ নিয়ে এখনই উদ্বেগের কিছু দেখছেন না তারা।

See also  ICC MEN'S T20 WORLD CUP কবে থেকে শুরু হবে এবং T20 WORLD CUP এর সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন

এখনো পর্যন্ত ভারতে কোন সংক্রমনের খবর পাওয়া যায়নি, তবুও সতর্ক কেন্দ্র।তবে গুজরাতের এক শিশুকন্যা সংক্রমিত হয়েছে বলা সন্দেহ করা হচ্ছে। আরও কয়েকটি শহরে নজরে রাখা হয়েছে কয়েক জনকে। এই সময়েই ভারতে সতর্ক হওয়ার পরামর্শ দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।এয়ারপোর্ট এবং বিমানবন্দর গুলোতে কেন্দ্রের তরফ থেকে সর্তকতা কথা নির্দেশ করা হয়েছে।ভারতের চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা ও বলেছেন যে এটি একধরনের বসন্ত রোগ। চিকিৎসকদের মতে, শরীরে রক্ত এবং লালারসের নমুনা পরীক্ষা করলেই শরীরে মাঙ্কি পক্সের উপস্থিতি সম্পর্কে ধারণা পাওয়া সম্ভব। গোটা বিশ্বে প্রায় ৭৮০ জন আক্রান্ত। যার অধিকাংশেই ইউরোপের নানা দেশের বাসিন্দা।

নতুন টিপস ও লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক করুন

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*