ডেঙ্গিতে মৃত্যু রোধে আর্টিফিশিয়াল ইন্টালিজেন্স কতটা কার্যকরী!

করোনার সঙ্গে লড়াইয়ের মাঝেই দেশ এই মুহূর্তে ডেঙ্গির মতো ভয়াবহ রোগের সঙ্গেও লড়াই করে চলেছে প্রবল। দিকে দিকে দেখা যেতে শুরু করেছে ডেঙ্গির প্রবল দাপট।

সেপ্টেম্বরের শুরু থেকেই উত্তরপ্রদেশের মতো রাজ্যে ডেঙ্গির মারাত্মক প্রভাব দেখা গিয়েছে। যারফলে সেরাজ্যের সরকার কঠিন পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়েছে।

এখনও পর্যন্ত কোনও পরীক্ষিত ভ্যাকসিন বা চিকিত্‍সা ডেঙ্গি রুখতে আসেনি এদেশে। ফলে ডেঙ্গি শক সিন্ড্রোম বোঝার জন্য একটি নির্ভুল ক্ষমতা দরকার। এটি ডেঙ্গি রোধে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমরা সকলেই জানি যে , ডেঙ্গি রোধে মশার একটি প্রজাতিকে নিয়ন্ত্রণে রাখা খুবই জরুরি। যে প্রজাতির হাত ধরে এই প্রবল ভয়াবহ রোগের দাপট শুরু হয়। এই মশার প্রজাতিই হল অ্যাডিস।

বর্তমানে বিভিন্ন প্রযুক্তির হাত ধরে বহু জটিল সমস্যার সমাধান সম্ভব। তেমনই আর্টিফিশিয়াল ইন্টালিজেন্স দ্বারাও বহু সমস্যা সমাধান করা গিয়েছে। তবে ডেঙ্গির মতো ভয়াবহ রোগের দাপটে মৃত্যু রোধ করা সম্ভবপর কি?

তরুণ চিকিত্‍সক তথা বিজ্ঞানী ডক্টর অভিজিত্‍ রায় AI/ML নির্ভর একটি সমাধান তুলে ধরেছেন। যে সমাধানের রাস্তা ধরে ডেঙ্গির মতো রোগের প্রবল কঠিন দিককে সমাধান করা যায়। এই নয়া গবেষণার হাত ধরে আসা সমাধানে চিকিত্‍সক, রোগীর সঙ্গে প্রশাসনও বহু সাহায্য পাবে বলে বিশ্বাস বিজ্ঞানীদের।

ডেঙ্গিতে মৃত্যু: বেশির ভাগ ক্ষেত্রে ডেঙ্গিতে মৃত্যুর কারণ হ্যামারেজিক শক। যা থ্রম্বোসাইটোপেনিয়ার হাত ধরে আসা রক্তক্ষণরের ফলে হয়ে থাকে। এরফলে দেহে রক্তের প্লেটলেট কমে যায়, যারফলে প্রজোয়নীয় অক্সিজেন ও পুষ্টি কোষগুলিতে যেতে পথ রোধ করে। ফলে শরীরের ন্যূনতম কাজগুলি সম্ভবপর হয় না। এটিই বড়সড় বিপদ ডেকে আনে। এই ধরনের ঘটনা ডেঙ্গি শক সিন্ড্রোম বা ডিএসএস নামে পরিচিত। এই ডিএসএস-এর হাত ধরে ডেঙ্গির মতো জ্বরে মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে।

রক্তের প্লেটলেট কমে যাওয়া ও তার সঙ্গে ডেঙ্গি শক সিস্টেমের হাত ধরে এর কমে যাওয়ার সম্পর্ক ব্য়াখ্যা বেশ কঠিন। ফলে বিশ্বের বহু চিকিত্‍সকেরই সমস্যা হয়ে থাকে যে, ডিএসএস থেকে রোগীর শরীরে ডেঙ্গির প্রাদুর্ভাবের মানদণ্ড স্থির করা। রোগের ভয়াবহতা কতটা রোগীর শরীরে ছড়িয়েছে তা ধরা বহু ক্ষেত্রেই সমস্যাদায়ক হয়। ফলে রোগের সঠিক চিকিত্‍সায় অনেকটাই দেরী হয়।

চিকিত্‍সক অভিজিত্‍ রায়ের নয়া গবেষণায় ডেঙ্গির চিকিত্‍সা নয়া মাত্রা পাব। ডেঙ্গি শক সিস্টেম খুঁজে বের করার কাজে তিনি মেশিন লার্নিং ও আর্টিফিশিয়াল ইন্টালিজেন্সকে কাজে লাগিয়েছেন। ফলে তাঁর গবেষণায় উঠে আসা সফ্টওয়্যারের দ্বারা এক ডেঙ্গি রোগীর দেহে বহু আগে থেকেই বোঝা যাবে যে তিনি ডিএসএস-এর কবলে পড়তে চলেছেন কি না।

এটি নিঃসন্দেহে একটি তাবড় গবেষণা চিকিত্‍সা বিজ্ঞানের বিশ্বে। এই সফ্টওয়্যারে রক্তের প্লেটলেট কাউন্ট ও হেমাটোক্রিট লেভেল বোঝা যায়। এই এআই নির্ভর অ্যালগোরিথমে পিএলটি ও এইসচিসি বোঝা যায় ডেঙ্গি রোগীর আক্রান্ত হওয়ার তৃতীয় দিন থেকে। এর থেকেই ধরে ফেলা যায় যে রোগীর মধ্যে ডিএসএস হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে কী না। এই যুগান্তকারী গবেষণার দ্বারা ডিএসএশ সম্পর্কে নির্ভুল তথ্য মেলে। বিশেষধ ডেঙ্গির প্রবল ভয়াবহতার ঝুঁকি যে রোগীদের মধ্যে রয়েছে , তাদের ক্ষেত্রে এটি কার্যকরী। এই নয়া গবেষণা থেকে ডেঙ্গির জেরে মৃত্যুর হার অনেকটাই রোধ করা যেতে পারে।

দেশ যখন প্রবলহারে ডেঙ্গির বিরুদ্ধে লড়াই করছে, উত্তরপ্রদেশের মতো রাজ্য যখন ডেঙ্গির প্রবল দাপটে বিধ্বস্ত, তখনই এমন একটি গবেষণা দেশে এসে যাওয়ায়, তা সার্বিকভাবে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে মনে করা হচ্ছে।

Similar Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published.