পাঙ্গাস মাছ চাষ কিভাবে করা হয় ও তার পরিচর্যা বিস্তারিত জেনে নিন

পাঙ্গাস

পাঙ্গাস মাছ মানুষের  খুব জনপ্রিয় এবং পরিচিতি মাছ। পাঙ্গাস মাছটি প্রাকৃতিক মুক্ত জলাশয়ে মাছ। এই মাছটি নদীসহ উপকূলীয় অঞ্চলে বা বড়ো  ঝিল পাওয়া যায় । পাঙ্গাস মাছ আভিজাত্যের প্রতীক হিসেবে উচ্চবিত্তের মাছ হিসেবে বিবেচিত ছিল।প্রকৃতির খামখেয়ালির জন্য দিন দিন হ্রাস পাচ্ছে নদীর নাব্যতা। প্রাকৃতিক প্রজনন ক্ষেত্রসমূহ ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ার ফলে পাঙ্গাস মাছের উৎপাদন কমে যাচ্ছে। তবে পুকুরে পাঙ্গাস চাষের ব্যাপক সম্ভাবনা থাকায় আশির দশক থেকেই এর ওপর কার্যক্রম অব্যহত রয়েছে।

কেমন পুকুর নির্বাচিত করবেন

পাঙ্গাস চাষের পুকুর আয়তনের দিক দিয়ে বড়ো এবং ভালে হওয়া প্রয়োজন।পুকুরের তলায় সব জায়গায় মাটি সমান হওয়া প্রয়োজন।  জলের গভীরতা ১.৫ থেকে ২ মিটার রাখা দরকার। এই মাছ চাষের করার জন্য দোআঁশ মাটির পুকুর সবেচেয়ে ভাল। প্রয়োজনে দ্রুত জল দেয়া যায় সেজন্য পুকুরের কাছেই গভীর বা অগভীর নলকূপের ব্যবস্থা রাখা দরকার। অতিরিক্ত জল বা বর্ষার কারণে পুকুরের পাড় যাতে না ভেঙে যায় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। পাঙ্গাস চাষের পুকুরটি এমন জায়গায় বেছে নিতে হবে, যেখানে যোগাযোগের সুবিধা ভাল এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা রয়েছে।

পাঙ্গাস চাষের পুকুর প্রস্তুতি 

পুকর নির্বাচন করার পর পুকুরটিকে মাছ চাষের উপযুক্ত করে নিতে হবে। পুকুর প্রস্তুতি সম্পর্কে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জেনে নেয়া যাক। পুকুরে থাকা নানা প্রকারের জলজ আগাছা থাকলে প্রথমেই সেগুলোকে সরিয়ে ফেলতে হবে। পাঙ্গাস চাষের পুকুরে অপ্রয়োজনীয় ও রাক্ষুসে মাছ যেমন-শোল, বোয়াল, গজার, টাকি, বাইম, মলা, ঢেলা ইত্যাদি মাছকে পাঙ্গাস চাষের আগেই অপসারণ করতে হবে। এক কথায় এমন কিছু থাকবে না যা পাঙ্গাস চাষের অপ্রয়োজনীয় হয়ে ওঠে । 

পাঙ্গাস মাছ চাষ

চাষের পরিচর্যা

  • পুকুরকে মাছ চাষের উপযুক্ত করতে চুন প্রয়োগ খুব গুরুত্বপূর্ণ। যে সব পুকুরের জলে অম্লত্বের সমস্য নেই সেখানে প্রতি হেক্টরে  ২৫০ থেকে ৩০০ কেজি চুন প্রয়োগ করতে হবে। চুন প্রয়োগের আগে গুড়ো করে নিলে এর কার্যকারিতা অনেকগুণ বেড়ে যায়।
  • পুকুরের প্রাকৃতিক খাবার উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য জৈব এবং রাসায়নিক সার দুটোই ব্যবহার করা দরকার। সাধারণত চুন প্রয়োগের ৪>৫ দিন পর সার প্রয়োগ করতে হয়। নতুন পুকুর এবং বেলে  মাটির পুকুরে জৈব সার বেশি প্রয়োগ করতে হবে।  পুরাতন কাদাযুক্ত পুকুরে রাসায়নিক সার বেশি প্রয়োগ করতে হবে। পুকুর প্রস্তুতকালীন সময়ে জৈব সার প্রতি শতকে ৮ থেকে ১০ কেজি গোবর অথবা ৪ থেকে ৫ কেজি মুরগীর বিষ্ঠা ব্যবহার করতে হবে।

পাঙ্গাস চাষে পুকুরে যে প্রাকৃতিক খাবার তৈরি হয়, তা মাছের আশানুরূপ ফলনের জন্য যথেষ্ঠ নয়। তাই সুষম খাদ্য প্রয়োগ অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে। মনে রাখতে হবে চাষ পর্যায়ে দৈনিক নির্দিষ্ট পরিমান খাদ্য সরবরাহ না করতে পারলে পাঙ্গাসের উৎপাদন বাধাগ্রস্থ হবে। মাছের খাদ্যের পরিমান মাছের বয়স এবং দেহের ওজনের ওপর নির্ভর করে। ১৫ দিন পর পর নমুনা হিসেবে কয়েকটি মাছের ওজন পরীক্ষা করে দেখতে হবে মাছ ঠিক মতো বাড়ছে কিনা।

পাঙ্গাস মাছ সংগ্রহ

মাছ মজুদের ৫-৬ মাস পর যখন পাঙ্গাসের গড় ওজন ৫০০ থেকে ৬০০ গ্রাম হয়, তখনই মজুদকৃত মাছের ৫০% বাজারে বিক্রি করে দিলে ভালে। কারণ অবশিষ্ট মাছ দ্রুত বেড়ে ওঠার সুযোগ পায়।

Similar Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published.